কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পিতা-মাতা, এবং তার সন্তান ও সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে বেশি মোহাব্বত করবে। {সহীহ বুখারী শরিফ, হাদীস নং-১৫, সহীহ মুসলিম শরিফ, হাদীস নং-১৭৭}

Showing posts with label Islamic story & motivational post.. Show all posts
Showing posts with label Islamic story & motivational post.. Show all posts

Tuesday, February 22, 2022

হযরত ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত আছেন।

 হযরত ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত আছেন।



ইহুদিরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সবচেয়ে বড় দুশমন ছিল। তারা  আলাইহিস সালামকে সহ্য করতে পারত না। একদিন ইহুদিদের একটি দল হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে এই বলে গালিগালাজ করতে লাগলো যে তুমি জাদুকর তোমার মা ও জাদুকর । এবং বলল তুমি অসৎ এবং তোমার মাও একজন অসতী। একথা শুনে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম মনে অনেক কষ্ট পেলেন। এবং আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ করলেন হে আল্লাহ, আমি তোমার একজন নবী। এসব লোকেরা আমাকে এবং আমার মাকে যা তা বলছে। অতএব তুমি এই সব লোকদের তোমার আজাবের মজা দেখাও। তখন আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করলেন এবং ইহুদিদের ওই দলকে বানরে এবং শুকর পরিণত করলেন।


 এ হেন ঘটনা যখন ইহুদীদের প্রধান জানতে পারল তখন সে খুব ঘাবড়ে গেল এবং ভয় পেয়ে গেল যে তাদের সব ইহুদিদেরকে এরকম বানর ও শূকরে পরিণত করে ফেলতে পারে। তারপর সে সকল ইহুদিদের একত্রিত করল এবং বলল যেকোন উপায়ে ঈসা কে হত্যা করতে হবে। এদিকে হযরত জিবরীল আমীন হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম জানিয়ে দিলেন যে ইহুদীরা আপনাকে হত্যা করতে আসবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আপনাকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিবেন।


এরপর ইহুদিরা সব একত্রিত হল এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ঘর ঘিরে ফেলল। তারপর এক ব্যক্তি কে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর ঘরে পাঠানো হলো দেখে আসার জন্য। তখন আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিলেন এবং সেই ইহুদি যে ঘরে প্রবেশ করেছিল তাকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের রূপ দেয়া হল। এরপর কিছুসংখ্যক ইহুদি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ঘরে প্রবেশ করল এবং নিজেদের সেই লোকটিকে ঈসা আলাইহিস সাল্লাম মনে করে তাকে হত্যা করে ফেলল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা ভাবতে লাগলো তাদের নিজেদের সেই লোকটিকে যারা তাকে পাঠিয়েছিল সে কোথায়। আর এই লোকটি যদি তাদের লোক হয় তবে ঈসা কোথায় আর যদি এই লোক ঈসা হয় তাহলে তাদের পাঠানো সে লোকটি কোথায়? 🤔


এখন ইহুদীরা ধারণা করতে লাগল যে তারা ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে হত্যা করে ফেলেছে। কিন্তু আসলে প্রকৃতপক্ষে তারা ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে হত্যা করতে পারেনি। বরং তারা তাদের নিজেদের লোককে হত্যা করে ফেলেছে ঈসা মনে করে। আর ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে আল্লাহ তায়ালা জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নেন।


Saturday, February 19, 2022

এক বুদ্ধিমতি বৃদ্ধার গল্প।

 একদা এক মাওলানা এক বৃদ্ধাকে প্রশ্ন করল। তুমি কি সারাজীবন চরকায় সুতা কেটে যাবে নাকি আল্লাহ খুদা কে জানার জন্য কিছু করলে? তখন বৃদ্ধা উত্তর দিলো এই চরকার ভেতর আমি আমার আল্লাহকে জানতে পেয়েছি। তখন মাওলানা সাহেব একটু বিস্মিত হয়ে বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলেন সেটা কিভাবে সম্ভব? 


মাওলানা সাহেব তখন বৃদ্ধা কে প্রশ্ন করল-আচ্ছা এবার বলুন তো দেখি আল্লাহ মজুদ আছেন কিনা। উত্তরে বৃদ্ধা বলল আল্লাহ সবসময় মজুদ আছে। মাওলানা সাহেব বলল কিভাবে? জবাবে বৃদ্ধা বললো এই দেখুন যতক্ষণ আমি এই চরকাটি চালাতে থাকি ততক্ষণ পর্যন্ত এটিই চলতে থাকে। যদি আমি এটাকে বন্ধ করে দেই তাহলে চরকাটি ও বন্ধ হয়ে যায়। তাই যদি এর ছোট চরকাটি চালানোর জন্য একজন চালক এর প্রয়োজন হয়, তবে এ বিশাল আসমান, জমিন, চাঁদ সূর্যের মতো বিশাল বিশাল চরকা গুলো চালানোর জন্য অবশ্যই কোন না কোন চালক এর প্রয়োজন হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত সে এগুলো চালাতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিশাল আসমান জমিন চন্দ্র সূর্য তার নিজ গতিতে চলতে থাকবে। যখন সে এটাকে ছেড়ে দেবে তখন এগুলো চলা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি এখনো এগুলো চলতে থাকা বন্ধ হতে দেখিনি। এতে করে প্রমাণিত হয় যে, এগুলোর চালককের অবশ্যই মজুদ আছেন।


এবার মাওলানা সাহেব আবার প্রশ্ন করলেন, এখন বলুন তো দেখি এই আসমান-জমিনের চালক একজন নাকি দুইজন? বৃদ্ধা উত্তর করলো নিঃসন্দেহে একজন। সেটার প্রমানও আমার এই চরকা। যেমন আমি যখন চরকা কে চালনা করি তখন এই চরকা আমার মর্জি মোতাবেক চলে। এখন এই চরকার চালক যদি দুজন হত তাহলে অন্য চালক আমার সাহায্যকারী হয়ে তার মর্জি মোতাবেক চালাত। তাহলে দেখা যেত চরকার গতি বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক গতির মধ্য তারতম্য সৃষ্টি হতো এতে করে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটতো এবার সুতোর গুণগত মান নষ্ট হতো। আর যদি সে আমার মর্জি এর বিপরীত চালনা করত তাহলে চরকাটিকে সে উল্টোদিকে চালাত তাহলে চরকাটি হয়তো থেমে যেত না হয়তো ভেঙে যেতো। তাহলে যেহেতু এরকম কিছুই হয়নি অতএব বুঝে নিতে হবে এ বিশাল আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য তারকারাজির চালক অবশ্যই একজন।


এ থেকে বোঝা যায় সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান উনার কোনো ক্লান্তি নেই কোন অবসাদ নেই কোন ঘুম নেই। সৃষ্টি জগতের সবকিছুই ওনার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে।